দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের বয়কটের লজ্জা নিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে আলোচনার ইতি ঘটেনি এখনও। এর মধ্যে হঠাৎ করেই সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গেছেন ইসরায়েলের বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চুপিসারে উপসাগরীয় মুসলিম দেশটিতে তার এই গোপন সফর যেন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।
ইসরায়েলি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এই সফরের সত্যতা নিশ্চিত করে রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার পর্দা ঠেলে আবুধাবিতে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও একমিত্র হয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বৈঠকের এজেন্ডা নিয়ে এখন পর্যন্ত বজায় রাখা হয়েছে এক রহস্যময় নীরবতা। তবে হঠাৎ কেন এই সফর এবং এই দুই নেতার গোপন দরকষাকষিতে ঠিক কী ফন্দি আঁটা হচ্ছে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই ঝটিকা সফরের নেপথ্যে রয়েছে দেশের ভেতরের চরম রাজনৈতিক চাপ ও ৭ অক্টোবরের অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়।
সম্প্রতি ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সেই নজিরবিহীন আক্রমণের প্রায় দেড় সপ্তাহ আগেই আমিরাত প্রধান শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ সরাসরি সতর্ক করেছিলেন নেতানিয়াহুকে। কিন্তু সেই আগাম সতর্কবার্তা গোয়েন্দা সংস্থা বা সেনাবাহিনীর কাছে পৌঁছাতেই দেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী!
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নেতানিয়াহুর আসন টালমাটাল হয়ে পড়ে। যদিও তিনি প্রতিবেদনটিকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া’ দাবি করে পত্রিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন, তবুও বিরোধী দলগুলোর তীব্র তোপের মুখে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত এখন সুতোয় ঝুলছে।
কঠিন এক পুনর্নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে, ফিলিস্তিন ইস্যু ও মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত সমর্থন ধরে রাখতেই মূলত নেতানিয়াহুর এই তড়িঘড়ি ‘মিশন আমিরাত’ কি না, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
কেএম